# Tags

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে লাউ ক্ষেতে পড়ে ছিল নারীর মরদেহ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি-পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় লাউ ক্ষেত থেকে তনজিনা আক্তার (৩৫) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার সকালে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের ধামোর মধ্যপাড়া এলাকায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিলু হোসেন (৫০) নামের একজনকে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তনজিনা আক্তার ওই গ্রামের চাল ব্যবসায়ী মৃত মজিবর রহমানের স্ত্রী। তনজিনার দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, তনজিনার স্বামী চাল ব্যবসায়ী মজিবর রহমান গত এক বছর পূর্বে মারা যান। কয়েক মাস পর একই গ্রামের দিলু হোসেনের ছোট ছেলে মিনাল (২৭) তার সাথে সম্পর্কে জড়ায় তনজিনা। পরে গত দুই মাস আগে গোপনে বিয়ে করেন মিনাল ও তনজিনা। বিয়ের পর থেকে উপজেলার মির্জাপুর বাজারে এক ভাড়া বাসায় থাকা শুরু করেন।
এদিকে বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য মিনালের পরিবার তাকে চাপ সৃষ্টি করে। তনজিনার বড় ও ছোট ছেলেকে মিনালের বড় ভাই মিজানুর রহমান (৩০) বিভিন্ন সময় নানা রকম হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। এরই জেরে গত বৃহস্পতিবার তাদের বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য তনজিনার বড় ছেলেকে দিয়ে ব্লাকমেইল করে মিনালের বড় ভাই মিজানুর। ছেলের কথা ভেবে বিয়ে বিচ্ছেদ করাতে বাধ্য হয় তনজিনা। পরে মিজানুর তনজিনার বড় ছেলে তৌহিদুলকে নিয়ে যায় পঞ্চগড় আদালতে। আর মিনাল নিয়ে আসে তনজিনাকে। সেদিন তাদের বিচ্ছেদ হয় আদালতে। ওইদিন রাতেই তনজিনার বাসায় পুলিশ যায়। পুলিশের বরাতে স্থানীয়রা জানতে পারেন তনজিনা জরুরি সেবা-৯৯৯ এ কল দিয়ে অভিযোগ করে বলেন, তাকে কোনো এক অন্ধকার জায়গায় আটকে রেখে মিনাল চলে গেছে। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
সোমবার সকালে ধামোর মধ্যপাড়া এলাকার জাহিরুল ইসলামের লাউ ক্ষেতে কয়েকজন লাউ তুলতে আসে। সেখানে একজনের মরদেহ পরে থাকতে দেখেন তারা। কাছে গিয়ে তনজিনার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে স্থানীয়দের ডাকাডাকি শুরু করেন। পরে বারঘাটি তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ও আটোয়ারী থানার পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করে।
বারঘাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রর ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত উপস্থিতি হই। পরে আটোয়ারী থানা পুলিশ সহ মরদেহ উদ্ধার করি। কি কারণে মারা গেছেন সেটা জানার জন্য মরদেহ পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। #